এক বছরে ৮০ কোটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে এক্স

অনলাইন কারসাজি ও ভুয়া কার্যক্রম ঠেকাতে প্রায় ৮০ কোটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স।

ভুয়া নেটওয়ার্ক তৈরি, স্প্যাম ছড়ানো ও বিভিন্ন রাষ্ট্রের সমর্থিত প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা মোকাবেলায় এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সামনে এক্সের প্রতিনিধিরা বলেন, প্লাটফর্মটিতে বড় আকারে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। রাশিয়াকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সবচেয়ে সক্রিয় রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পরই রয়েছে ইরান ও চীন।

এক্সের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালজুড়ে প্লাটফর্ম ম্যানিপুলেশন ও স্প্যাম নীতি লঙ্ঘনের দায়ে তারা এ বিশালসংখ্যক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে। যদিও এ অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে কতগুলো সরাসরি বিদেশী হস্তক্ষেপের সঙ্গে জড়িত, তা প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী এক্সে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ কোটি সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছেন।

এক্স করপোরেশনের সরকারিবিষয়ক নির্বাহী উইফ্রেদো ফার্নান্দেজ ভিডিও সংযোগে কমিটির শুনানিতে জানান, প্রতিদিনই অসংখ্য ভুয়া অ্যাকাউন্টের নেটওয়ার্ক তৈরি করার চেষ্টা দেখা যায়। তার মতে, কৃত্রিমভাবে তৈরি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্লাটফর্মকে প্রভাবিত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো জানান, প্লাটফর্মে স্প্যাম ছড়ানোর প্রবণতাও কমেনি। গত বছরের শেষ দিকেও আরো কয়েকশ কোটি অ্যাকাউন্ট অপসারণ করা হয়েছে। তার দাবি, বর্তমানে প্লাটফর্মে থাকা অধিকাংশ অ্যাকাউন্টই প্রকৃত ব্যবহারকারীর।

এক্সের নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব অ্যাকাউন্ট বড় পরিসরে আক্রমণাত্মক বা বিভ্রান্তিকর কার্যক্রম চালায় এবং অন্য ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা বিঘ্নিত করে, সেগুলোকে কারসাজিমূলক অ্যাকাউন্ট হিসেবে ধরা হয়। অন্যদিকে স্প্যাম বলতে বোঝায় অনাকাঙ্ক্ষিত ও বারবার করা কার্যক্রম, যেখানে নিম্নমানের বিপুল পরিমাণ কনটেন্ট ছড়িয়ে অন্য অ্যাকাউন্টকে প্রভাবিত করা হয়।

২০২২ সালে ইলোন মাস্ক প্লাটফর্মটি কিনে নেয়ার পরই কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। তখন প্লাটফর্মটির নাম ছিল টুইটার। একই সঙ্গে ভুয়া ও স্প্যাম অ্যাকাউন্টের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই মাস্কের উদ্বেগের কারণ বলে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন।

আরও